
গভীর রাতে বাড়িতে আগুন ,পরিকল্পিত দাবি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কাফির
জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়কারী এবং বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব আলোচিত কনটেন্ট নির্মাতা নুরুজ্জামান কাফির পটুয়াখালীর কলাপাড়ার গ্রামের বাড়ি দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে আগুনের ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন কাফি।
জানা গেছে, এসময় নুরুজ্জামান কাফির মা-বাবাসহ পরিবারের ৬ সদস্য ঘরের মধ্যে থাকলেও তারা অক্ষত অবস্থায় ঘর থেকে বের হতে পেরেছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া সেই স্ট্যাটাসে নুরুজ্জামান কাফি লিখেন, ‘মধ্য রাতে আমার বাড়ির ঘর, রান্নাঘর সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়েছে। কোন দেশের জন্য, কাদের জন্য কথা বলেছিলাম! যুদ্ধ করেছিলাম এবং করছি। নিরাপত্তা পাইনি।’
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. ইলিয়াস হোসাইন । তিনি বলেন, রাত সোয়া ২টার দিকে আমাদের মোবাইলে কল আসে নুরুজ্জামান কাফির বাসায় আগুন লেগেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে যাই। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তার আগেই পুরো বাড়ি আগুনে পুড়ে যায়। আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যই আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হই। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।পাশের গোয়াল ঘরটাকে নিরাপদ রাখতে পেরেছি। মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। বাড়ির সবাই নিরাপদে ও অক্ষত আছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, তাদের বাড়ির দরজা কে বা কারা বাইরে থেকে আটকে দিয়েছিল, বিষয়টি সন্দেহজনক ও পরিকল্পিত বলে মনে করছেন তারা।'
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ বলেন, 'খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কাজে সহায়তা করে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।'
এদিকে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি তার বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। আজ সকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামে পুড়ে যাওয়া বাড়ির সামনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। বুধবার ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নুরুজ্জামান কাফি সাংবাদিকদের জানান, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙার অভিযানে তিনিও ছিলেন। তার দাবি এ কারণে প্রতিশোধ নিতে তার বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আগামী সাত দিনের মধ্যে ঘর পুননির্মাণ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
নুরুজ্জামান কাফি তাদের পুড়িয়ে দেওয়া ঘরের ধ্বংসস্তূপের সামনে বসে আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘ঘরের বাইরে থেকে দরজা আটকে আমার মা–বাবা, ভাই-ভাতিজি সবাইকে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল। আমি তো নতুন বাংলাদেশ গড়তে আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনে ছিলাম। অথচ আমার এখন পুরো ঘরটা নাই। আমি স্পষ্ট বলতে চাই, সাত দিন টাইম। যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। নইলে সাত দিন পরে রাজপথে একা দাঁড়াব।’
কাফি আবেগাক্রান্ত হয়ে আরও বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি রেখে দুবার কান্না শুনেছি মা–বাবার। ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্টে পালিয়ে থাকা অবস্থায় একবার, আর গত রাতে বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পরে আরেকবার।’
অন্যদিকে এই অগ্নিকাণ্ডের পরে নুরুজ্জামান কাফির বাবা মাওলানা এ বি এম হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, বাহির থেকে দরজা আটকে এ আগুন দেয়া হয়। তিনি এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের ঘরটি দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আমাদের পুড়িয়ে মারার জন্যই এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা এর তদন্ত ও বিচার চাই। যে-যার মতো করে দরজা ভেঙে বের হয়েছি। কিছু নেই। সব শেষ হয়ে গেছে।’
আরও পড়ুনঃ- রণবীর আলাহবাদিয়ার যৌনতা সংক্রান্ত প্রশ্নে উত্তাল চারিদিক
এ সম্পর্কে প্রতিবেশী ওয়ালি উল্লাহ ইমরান বলেন, ‘আমরা আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিই। তাদের সঙ্গে আমরাও আগুন নির্বাপণের কাজে নেমে যাই। এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত, কারণ জানালার বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। ঘরের সবাই খালি কাপড়ে বের হয়ে এসেছেন।’
এছাড়া, কাফির বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার খবর শোনার পর কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কলাপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র হুমায়ুন সিকদারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান, কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মোহাম্মদ ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নাননু মুন্সী উপস্থিত ছিলেন।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন সিকদার বলেন, ‘কাফির বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নাশকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর সঙ্গে জুলাই বিপ্লবে পরাজিত শক্তি জড়িত রয়েছে। যথাযথ তদন্ত করে এ ঘটনায় জড়িত অপশক্তিকে খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা অতি দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা দেখতে চাই। আশা করি, পুলিশ বিভাগ তাদের দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এ নাশকতার রহস্য বের করবে।’
প্রসঙ্গত, স্বনামধন্য কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার রজপাড়া গ্রামে। তার বাবা রজপাড়া দ্বীন এ এলাহী দাখিল মাদ্রাসার সুপার। তারা দুই ভাই। ২০১৯ সাল থেকে তিনি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন। বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত তার ভিডিওগুলোতে হাস্যরসের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অসংগতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ তুলে ধরা হয়। তবে করোনাকালীন সময়ে মশার কয়েল ও প্রাক্তনকে নিয়ে করা কনটেন্টে তিনি ভাইরাল হয়েছেন। বর্তমানে বইমেলা কেন্দ্রিক ভিডিওকে সামনে রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগুনে নগদ টাকা ও স্বর্নালংকার সহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাফির পিতা। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সেটি এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন।
ডেস্ক রিপোর্টার
সর্বাধিক পঠিত
Loading...