
সবাইকে জানিয়েই বিয়ে করবেন তমা মির্জা
রায়হান রাফী ও তমা মির্জার প্রেমের গুঞ্জন বহুদিনের হলেও মাঝে তাদের সম্পর্কে ভাঙনের সুর বেজে উঠেছিল। তবে হঠাৎ করেই সর্বত্র জোর জল্পনা- চুপিসারে বিয়ে করেছেন তারা।
দেশের এ সময়ের দর্শকপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফী ও অভিনেত্রী তমা মির্জার মধ্যকার সম্পর্কের কথা কারো অজানা ছিল না। অবশ্য এই তারকা জুটি প্রকাশ্যে তাদের সম্পর্ক নিয়ে কখনো কোন মন্তব্য করেননি। যেকোন অনুষ্ঠানে তাদের দুজনকে একসাথে যেতে দেখা গিয়েছে এবং তারা একে অপরের জন্মদিন একসাথে পালন করেছেন।
নির্মাতা - নায়িকা যুগল একে অন্যের পাশে থাকা, একসঙ্গে বিভিন্ন সারপ্রাইজের আয়োজন করা, একসঙ্গে বেড়াতেও যেতেন । এসব ভক্ত-অনুরাগীদের নজর এড়ায়নি। সেখান থেকে সকলে ধরে নিয়েছিলেন তাদের সম্পর্কে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত।
রাফী ও তমা মির্জার প্রেম প্রকাশ্যে চললেও সেই সম্পর্ককে শুধু ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ বলেই আখ্যা দিতেন তারা। তবে মাঝে তাদের সেই ‘ওপেন সিক্রেট’ রসায়নের অবনতি ঘটে এবং রাফী সেসময় দাবি করেন ,তাদের মধ্য আগে যে সম্পর্কটি ছিল, সেটি এখন নেই বরং একটি সম্পর্ক রয়েছে, যেটি শুধু বন্ধুত্ব। আর রাফীর সেই বন্ধুত্বের দাবিতে তমার সেসময় সাফ জবাব, ‘ভালবাসা সরে গেলে বন্ধুত্ব থাকে? নাকি নতুন করে বন্ধুত্ব হতে পারে? সত্যিই আমার জানা নেই।’
কিন্তু হঠাৎ করেই সম্পর্কের চিত্রে নতুন রঙ লাগলো যখন নির্মাতা- নায়িকা জুটিকে এক ফ্রেমে বন্দি পাওয়া গেল। রাফীর জন্মদিনের একটি ছবিকে ঘিরে তাদের প্রেমের গুঞ্জন একেবারে বিয়ে থেকে সংসার পর্যন্ত গিয়ে গড়ালো এবং সেই ছবিতে দেখা যায়, মা ও তমাকে নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটছেন রাফী। তবে এই বিয়ের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তমা মির্জার সুস্পষ্ট দাবী, 'পুরো সংবাদটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।'
অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু যদি ঘটে, সেটা লুকানোর কিছু নেই, অবশ্যই সবাইকে জানিয়েই বিয়ে করব। কিন্তু আপাতত এ নিয়ে আমার ভাবনা নেই, বিয়ে করলেও সেটা আরও পরে; এখন কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই। তবে কথা না বলেই এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা বিভ্রান্তিকর।’
সংবাদমাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে থেমে থাকেননি তিনি বরং এ নিয়ে সামাজিকমাধ্যমেও লিখেছেন চিত্রনায়িকা। গতকাল মঙ্গলবার এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অপ্রয়োজনীয় গসিপ ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য আমি মিডিয়াকে জোরালোভাবে অনুরোধ করছি। একজন শিল্পী হিসেবে, আমার প্রাথমিক ফোকাস আমার কাজের ওপর, এবং আমি বর্তমানে আমার আসন্ন প্রকল্পগুলোর মাঝেই নিবেদিত। যারা দায়িত্বশীল এবং সত্যের সঙ্গে রিপোর্ট করেন, তাদের সম্মান এবং পেশাদারিত্বের আমি প্রশংসা করি।’
রাফীর সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের বিষয়ে তমা বলেন, ‘রাফীর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা পারিবারিক। কেননা, একসঙ্গে আমরা বেশকিছু কাজ করেছি, তাই রাফীর পরিবারের সঙ্গে এক ধরনের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। শুধু আমারই নয়, সিয়াম, পূজাসহ আরও অনেকের ক্ষেত্রেই এ কথা প্রযোজ্য।’
আরও পড়ুনঃ- সালমান - রাশমিকার মিষ্টি রোমান্সে মুগ্ধ সিনেপ্রেমীরা
এছাড়া জন্মদিন ও প্রকাশ্যে আসা ছবিটির বিষয়ে পরিষ্কার করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনারা সকলেই জানেন, প্রায় দেড় মাস আগে রাফীর বাবা মারা গেছেন। আঙ্কেল আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। এবার আঙ্কেলকে ছাড়া রাফীর প্রথম জন্মদিন। যে কারণে আন্টির খুব মন খারাপ ছিল, রাফীরও মন খারাপ ছিল। কেননা ওর জন্মদিন নিয়ে আঙ্কেলেরই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকত। কিন্তু এবার যেহেতু তিনি নেই, আমরা সবাই চেয়েছি রাফীর পাশে থাকতে। জন্মদিন পালন নিয়ে কোনো প্ল্যান-প্রোগ্রাম ছিল না। যেহেতু রোজার মাস তাই আমার মাথায় কাপড় ছিল, আর পাশে যেহেতু আন্টিও ছিলেন, তাই অনেকে ধরে নিয়েছেন যে আমরা বিয়ে করে ফেলেছি! এটা কোনো কথা!’
নায়িকা আরও বলেন, ‘এ ধরনের সংবাদ কতটা যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে, সেটা যারা এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তারাই ভালো বলতে পারেন। যেহেতু আমি আমার পরিবারের সঙ্গে একবাসাতে থাকি, এমন ঘটনায় পরিবারের সদস্যরাও বিভ্রান্তির মধ্যেপড়েন। এর আগে, আদনান ভাই আর মেহজাবীনকে নিয়েও তো আমরা অনেক সংবাদ দেখেছি, কিন্তু যখন তারা বিয়ে করলেন তখন সবাইকে জানিয়েই করেছেন। তাই এই বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে সংবাদ প্রকাশ করা বিভ্রান্তিকর।
তবে রায়হান রাফী ও তমা মির্জার কাছ থেকে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা সময়ে নানা ধরণের অভিমত জানা গেলেও এর প্রকৃত অবস্থা সময়ই বলে দিবে। তাই ভক্ত- অনুরাগীদের জল্পনা কল্পনা বাদ দিয়ে ভবিষ্যতের অপেক্ষা করাই হবে সঠিক পন্থা।
প্রসঙ্গত, রায়হান রাফীর পরিচালনায় প্রথমবার তমা মির্জা ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করেন। পরে আবার তাদের দেখা যায়, ‘৭ নম্বর ফ্লোর’ , ফ্রাইডে ওয়েব সিনেমায়। ২০২৩ এর ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়েছিল 'সুড়ঙ্গ' সিনেমাটি। এ সিনেমায় আফরান নিশোর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছিলেন তমা। আর আগামীতে রাফী নির্মিত ওয়েব ফিল্ম "আমলনামা''- তেও তমা অভিনয় করেছেন।
ডেস্ক রিপোর্টার
সর্বাধিক পঠিত
Loading...