
মহাকাশ অভিযানে যাচ্ছেন বিশ্বখ্যাত মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি
মার্কিন পপ গায়িকা কেটি পেরি মহাকাশ অভিযানে অংশ নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছেন।জেফ বেজোসের প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের রকেটে করে মহাকাশের পথে এই যাত্রা করবেন তিনি।
ব্লু অরিজিনের রকেটে বিশেষ এই অভিযানে পপ তারকা একা নন, তার সঙ্গে থাকছেন আরও পাঁচজন নারী অভিযাত্রী। আর এই মিশনের নেতৃত্বেও থাকবেন কেটি পেরি।
ব্লু অরিজিনের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬৩ সালে ভালেন্তিনা তেরেসকোভার পর এটিই হতে যাচ্ছে মহাকাশে প্রথম নারী অভিযাত্রী দলের অভিযান। এই যাত্রায় কেটি পেরি ছাড়া আরও থাকবেন জেফ বেজোসের বাগদত্তা লরেন সানতেজ, সঞ্চালক গেইল কিং, সাবেক নাসার বিজ্ঞানী আইশা বোয়ি, মানবাধিকারকর্মী অ্যামান্ডা গুয়েন ও চলচ্চিত্র প্রযোজক ক্যারিয়ান ফ্লিন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরেই ব্লু অরিজিনের এনএস-৩১ মিশনটি মহাকাশের পথে রওনা দেবে। কেটি পেরি আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্ব কনসার্ট ট্যুরে ব্যস্ত থাকবেন, তাই ধারণা করা হচ্ছে এর আগেই এই বিশেষ সফর সম্পন্ন হবে।
এক বিবৃতিতে ব্লু অরিজিন জানিয়েছে, এমন একটি মিশনে অভিযাত্রীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সম্মানিত বোধ করছেন কেটি পেরি। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তাদের এই মিশন পরের প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
৪০ বছর বয়সী কেটি পেরি বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় গায়িকাদের একজন। ক্যাথরিন এলিজাবেথ হাডসন তার প্রকৃত নাম। খ্রীস্টান যাজক অভিভাবক দ্বারা পালিত ক্যাথেরিন শৈশবে গোস্পেল সঙ্গীত শুনতেন এবং শিশু হিসেবেই চার্চে গান করতেন। পরবর্তীতে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিইডি পরীক্ষা দেয়ার পর তিনি সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
২০০১ সালে তিনি নিজের নামে প্রথম সঙ্গীত অ্যালবাম প্রকাশ করেন যেখানে পেরি প্রধানত গোস্পেল ধারার গান করেছেন। পরবর্তিতে ২০০৪ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি তার দ্বিতীয় অ্যালবাম ও টিম ম্যাট্রিক্সের সাথে একটি মিশ্র অ্যালবামের কাজ করলেও অ্যালবাম দুটি শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।২০০৭ সালে পেরি ক্যাপিটাল মিউজিক গ্রুপের সাথে চুক্তি করেন এবং সেসময় তার নাম পরিবর্তন করে কেটি পেরি রাখেন।
আরও পড়ুনঃ- "সিকান্দার"র টিজারে চিরচেনা রবিনহুড রূপে সালমান খান
এসময় তিনি ইন্টারনেটে তার প্রথম একক সঙ্গীত "ইউ'র সো গে" প্রকাশ করেন। এই গান তাকে কিছুটা খ্যাতি এনে দিলেও গানটি চার্টে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ২০০৮ সালে তিনি দ্বিতীয় একক সঙ্গীত "আই কিসড এ গার্ল" প্রকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে এবং বিভিন্ন দেশের টপ চার্টে স্থান করে নেয়। পেরির প্রথম প্রধান অ্যালবাম ওয়ান অফ দ্য বয়েস একই সালে প্রকাশিত হয় এবং অ্যালবামটি ঐ বছরের বিশ্বের তেত্রিশতম সর্বোচ্চ বিক্রীত অ্যালাবামে পরিণত হয়।
রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অফ অ্যামেরিকা তার প্রথম অ্যালবামটিকে প্লাটিনাম সনদ দেয়। সেসময়বিলবোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত ২০০০-১০ দশকের সেরা ১০০ শিল্পীর তালিকায় পেরি ৯৭তম স্থান দখল করে।তার পরবর্তি অ্যালবাম টিনএজ ড্রিম ৩০ আগস্ট বিশ্বব্যাপী প্রকাশিত হয় এবং অ্যালবামটি বিলবোর্ড তালিকায় অ্যালবামটি শীর্ষস্থান দখল করে। ব্যক্তিগত জীবনে ২০১২ সালে রাসেল ব্র্যান্ডের সাথে দুইবছরের দাম্পত্য জীবন ভেঙ্গে যাওয়ার পরে তিনি ২০১৬ সাল থেকে অরলান্ডো ব্লুমের সঙ্গে সম্পর্কে আছেন।
২০০১ সালে ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকে তিনি পাঁচবার আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ও পাঁচবার বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস জিতেছেন। তার সবশেষ স্টুডিও অ্যালবাম ‘১৪৩’ প্রকাশিত হয় গত বছর।
ডেস্ক রিপোর্টার
সর্বাধিক পঠিত
Loading...