
বিরাট কোহলির ব্যাটে নতুন ইতিহাস, ভাঙলেন শচীনের রেকর্ড
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের দেওয়া ২৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন বিরাট কোহলি। আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ব্যক্তিগত শতক পূর্ণ করে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার।
এই ম্যাচে অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটিং মহারথী।
ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম ১৪ হাজার রান করার রেকর্ড এতদিন ধরে ছিল কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের দখলে। কিন্তু আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং করতে নেমে সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন বিরাট কোহলি। ব্যাটিংয়ে নামার সময় তিনি ছিলেন এই কীর্তি থেকে মাত্র ১৫ রান দূরে। শুরু থেকেই বেশ দেখেশুনে খেলেন এবং ইনিংসের ১৩তম ওভারেই কাঙ্ক্ষিত ১৪ হাজার রানের গণ্ডি পেরিয়ে যান।
শচীন টেন্ডুলকার যেখানে এই মাইলফলক ছুঁতে ৩৫০ ইনিংস খেলেছিলেন, সেখানে কোহলি তা করে ফেললেন মাত্র ২৮৭ ইনিংসে! অর্থাৎ, ভারতীয় ক্রিকেটের আরেক কিংবদন্তির চেয়ে ৬৩ ইনিংস কম খেলেই এই বিরল অর্জন নিজের করে নিয়েছেন তিনি। শচীনের পর ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে কম ইনিংসে ১৪ হাজার রান ছুঁয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা। তার লেগেছিল ৩৭৮ ইনিংস। তবে কোহলি তাদের দুজনকেই টপকে সবচেয়ে কম ইনিংসে এই মাইলফলক গড়ার রেকর্ড গড়লেন।
ওয়ানডে ক্রিকেটে বিরাট কোহলির ধারাবাহিকতা অবিশ্বাস্য। ব্যাটিংয়ে তার শৈল্পিক দক্ষতা এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা তাকে অন্য যে কারও চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। গত এক দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন তিনি। বিশেষ করে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে তার মানসিক দৃঢ়তা অনন্য। কোহলির ব্যাটিংয়ে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি চাপের মুখেও শান্ত থাকতে পারেন এবং দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
তার ক্যারিয়ারে এমন অনেক ম্যাচ আছে, যেখানে কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একা হাতে ভারতকে জিতিয়েছেন। ২০১২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপে ৩৩০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৮৩ রানের অতিমানবীয় ইনিংস খেলার ঘটনা ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে এখনো গেঁথে আছে। এ ছাড়া ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার ৮২ রানের ইনিংস কিংবা ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে একের পর এক সেঞ্চুরি করাও তার সামর্থ্যের প্রমাণ।
শচীন টেন্ডুলকার ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা নাম। তার ব্যাটিং শৈলী, রেকর্ড এবং ফ্যান ফলোয়িং তাকে বিশ্ব ক্রিকেটের এক অবিস্মরণীয় চরিত্রে পরিণত করেছে। কোহলির উত্থানের শুরু থেকেই অনেকেই তাকে শচীনের উত্তরসূরি হিসেবে দেখতেন। তবে কোহলি নিজেও সবসময় বলেছেন, শচীন তার অনুপ্রেরণা এবং তিনি কখনোই তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা ভাবেননি।
আরও পড়ুনঃ- ব্যাটিং ব্যর্থতায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে হতাশাজনক শুরু বাংলাদেশের
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোহলি নিজের মতো করে একের পর এক কীর্তি গড়তে থাকেন। ওয়ানডেতে সবচেয়ে দ্রুত ৮ হাজার, ৯ হাজার, ১০ হাজার, ১১ হাজার, ১২ হাজার এবং ১৩ হাজার রান করার রেকর্ডও তার দখলে। আজ ১৪ হাজার রান ছুঁয়ে তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন কেন তিনি আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার।
ওয়ানডে ক্রিকেটে কোহলি শুধু দ্রুততম ১৪ হাজার রানই করেননি, বরং সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিকও এখন তিনিই। ২০২৩ বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তার ৫০তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি ছিল ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। শচীন টেন্ডুলকারের ৪৯টি সেঞ্চুরির রেকর্ড এতদিন ধরে অটুট ছিল, কিন্তু কোহলি সেটাও ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
তার সেঞ্চুরির সংখ্যা যত বাড়ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে— কোহলি কি ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যাটার হয়ে উঠছেন? পরিসংখ্যান বলছে, তিনি নিশ্চিতভাবেই এই তালিকার প্রথম সারিতে থাকবেন। তার অভূতপূর্ব ধারাবাহিকতা, ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা এবং বিপদের মুহূর্তে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ তাকে সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ডেস্ক রিপোর্টার
সর্বাধিক পঠিত
Loading...