
সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারত
শেষবার যখন ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল, তখন অজিদের দাপটে ট্রফি হাতছাড়া করতে হয়েছিল টিম ইন্ডিয়াকে। এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত।
আর এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই হারের কিছুটা প্রতিশোধও যেন নিয়ে নিল তারা।
দুবাইয়ের গরম আবহাওয়ায় টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে শুরুটা মোটেও স্বস্তির হয়নি তাদের। তরুণ ওপেনার কপার কনোলিকে বড় ম্যাচে সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। ৯ বল খেলে কোনো রান না করেই ফিরে যান তিনি। তবে অপর ওপেনার ট্রাভিস হেড ছিলেন বেশ আগ্রাসী মেজাজে। তার ৩৩ বলে ৩৯ রানের ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হন তিনি।
মিডল অর্ডারে একে একে ফিরে যান মার্নাস ল্যাবুশেন (২৯) ও জস ইংলিশ (১১)। একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে স্টিভেন স্মিথ ব্যাট হাতে দলের হাল ধরার চেষ্টা করলেও, তার ৯৬ বলে ৭৩ রানের ইনিংস ছিল কিছুটা ধীরগতির। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এদিনও ব্যর্থ, মাত্র ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
দল যখন ২০৫ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন অ্যালেক্স ক্যারি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দলকে আড়াইশো পার করানোর দায়িত্ব নেন। ৫৭ বলে ৬১ রান করে রান আউট না হলে হয়তো স্কোর আরও বড় হতে পারত। শেষ পর্যন্ত ২৬৪ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া, যেখানে ভারতের হয়ে মোহাম্মদ শামি ৩টি উইকেট শিকার করেন।
২৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা ভালো হলেও, সেটি বেশিক্ষণ টেকেনি। ওপেনার শুভমান গিল মাত্র ৮ রান করে আউট হলে ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়। রোহিত শর্মা শুরুটা দারুণ করেছিলেন, তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২৯ বলে ২৮ রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয় অধিনায়ককে।
তবে চাপের মধ্যে এক প্রান্ত থেকে ভারতকে এগিয়ে নেন বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ার। ইনফর্ম আইয়ার এদিনও ভালো খেলছিলেন, কিন্তু ফিফটির কাছে গিয়েও ৪৫ রানে থেমে যান। এরপর অক্ষর প্যাটেল ও হার্দিক পান্ডিয়া গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার চেষ্টা করলেও, দুজনই ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন।
আরও পড়ুনঃ- চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের দুর্দান্ত জয়
একপ্রান্তে যখন নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ছিল, তখন অন্যপ্রান্তে বিরাট কোহলি ছিলেন চিরচেনা রূপে। দলের জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে যখন তিনি আউট হন, তখন সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগালেও তা হাতছাড়া করতে হয় তাকে। ৯৮ বলে ৮৪ রান করে তিনি সাজঘরে ফিরলে কিছুটা চাপ তৈরি হয় ভারতের জন্য।
তবে সেই চাপ দূর করে শেষদিকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন লোকেশ রাহুল। তার ৩৪ বলে ৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস ভারতকে ১১ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।
মাত্র কয়েক মাস আগেই বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারের দুঃখ বয়ে বেড়াচ্ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। কিন্তু এবার সেই ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিল রোহিত শর্মার দল। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে না হলেও, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেবে।
বিশেষ করে বিরাট কোহলির দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং লোকেশ রাহুলের ম্যাচ ফিনিশিং সামর্থ্য দেখিয়ে দিল যে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ এখন আরও শক্তিশালী ও পরিপক্ক। অন্যদিকে, মোহাম্মদ শামির বোলিং দেখিয়ে দিল, বড় ম্যাচে কীভাবে চাপ সামলাতে হয়।
ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ কে হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে একথা নিশ্চিত, এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামলে ট্রফির আরও এক ধাপ কাছে যেতে পারে ভারতীয় দল।
ডেস্ক রিপোর্টার
সর্বাধিক পঠিত
Loading...