
সমালোচনার মুখে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন মুশফিকুর রহিম
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম অবশেষে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন। সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তার ব্যাট থেকে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স না আসায় সমালোচনার ঝড় বইছিল চারদিকে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছিলেন, তবে কি ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে তার বিদায়ের সময় হয়ে এসেছে?
অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবার (৫ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওয়ানডে থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন মুশফিক নিজেই।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে শূন্য রানে আউট হয়ে শুরুটা করেছিলেন হতাশাজনকভাবে। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে মাত্র ৫ বলে ২ রান করে বিদায় নেন। সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে দলের বিপর্যয়ের সময় যে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলার প্রত্যাশা থাকে, সেটি পূরণ করতে পারেননি তিনি। এমন ব্যর্থতার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও মাঠে দর্শকদের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাকে। তবে মুশফিক দীর্ঘদিন এ আলোচনা চলতে দিলেন না। বরং নিজেই জানিয়ে দিলেন, ওয়ানডে ক্রিকেটে এটিই তার শেষ অধ্যায়।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ১৯ বছর ধরে খেলে আসা মুশফিকের ক্যারিয়ার ছিল নানা উত্থান-পতনে ভরা। তিনি যখন প্রথম জাতীয় দলে সুযোগ পান, তখনও বাংলাদেশ ক্রিকেট ঠিকমতো নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ধাপে ধাপে দল যখন শক্তিশালী হতে শুরু করল, তখন তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে কিংবা ব্যাট হাতে, তিনি বহু ম্যাচে দলকে জিতিয়েছেন।
বিশেষ করে ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যকার সময়টায় মুশফিক ছিলেন দলের ব্যাটিং অর্ডারের অন্যতম ভরসা। ২০১৮ এশিয়া কাপে তার ১৪৪ রানের অনবদ্য ইনিংস এখনো বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। এই সময়ের মধ্যে দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি, কঠিন সময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দলকে।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে মুশফিক লিখেছেন, ‘আজ আমি ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে অবসর নিচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ, এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে যা কিছু অর্জন করেছি, তার জন্য কৃতজ্ঞ। হয়তো বৈশ্বিক মঞ্চে আমাদের সাফল্য সীমিত ছিল, তবে আমি নিশ্চিত, যখনই দেশের জার্সি গায়ে চাপিয়েছি, নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’
আরও পড়ুনঃ- সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারত
তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। তবে আমি উপলব্ধি করেছি, সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে— তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমান করেন (সুরা আল ইমরান ৩:২৬)। আল্লাহ যেন আমাদের ক্ষমা করেন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করেন।’
নিজের বিদায়ী বার্তায় মুশফিক তার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিকেট ছিল তার ভালোবাসার জায়গা, এবং দেশের হয়ে খেলা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়।
এখন ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও, লাল বলের ক্রিকেট তথা টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে দেখা যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু বলেননি মুশফিক। তবে তার বিদায় বার্তায় ফুটে ওঠা আবেগ বলছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখানেই শেষ হচ্ছে না।
ডেস্ক রিপোর্টার
সর্বাধিক পঠিত
Loading...