
কিউইদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন ভারত
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা ঘরে তুলল ভারত! টুর্নামেন্টের শুরু থেকে নানা বিতর্কের মধ্যেও ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো রোহিত শর্মার দল।
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শুরুর নাম ছিল আইসিসি নকআউট বিশ্বকাপ। ২০০০ সালে সেই প্রতিযোগিতার ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু দুই যুগ পর সেই পরাজয়ের জবাব দিল ভারত। এবার ফাইনালে কিউইদের ৪ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন দল। ২০১৭ সালের আসরে পাকিস্তানের কাছে হেরে যাওয়া শিরোপা এবার পুনরুদ্ধার করল তারা।
দুবাইয়ে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। নির্ধারিত ৫০ ওভারে তারা ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫১ রান সংগ্রহ করে। ড্যারিল মিচেল দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন। মাইকেল ব্রেসওয়েলও অর্ধশতক পূর্ণ করেন। ভারতের বোলারদের মধ্যে বরুণ চক্রবর্তী ও কুলদীপ যাদব দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
২৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত দারুণ সূচনা করে। দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শুবমান গিল প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। বিশেষ করে রোহিত ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। অধিনায়ক হিসেবে বড় ম্যাচে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি।
ভারত পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৪ রান সংগ্রহ করে। রোহিত ৪১ বলে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেন, আর গিল ছিলেন তুলনামূলক ধীরগতির। ৫০ বলে ৩১ রান করে গিল বিদায় নিলে ১০৫ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙে।
বিরাট কোহলি তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যর্থ হন, মাত্র ২ বলে ১ রান করে ফিরে যান। এরপর রোহিতও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ৭৬ রান করে বিদায় নেন। দ্রুত তিন উইকেট হারানোয় ম্যাচে ফিরতে শুরু করে নিউজিল্যান্ড।

কিন্তু এরপর শ্রেয়াস আইয়ার ও অক্ষর প্যাটেলের চতুর্থ উইকেট জুটিতে ভারত আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তারা ৬১ রানের পার্টনারশিপ গড়ে। আইয়ার ৬২ বলে ৪৮ রান করে আউট হন। এরপর হার্দিক পান্ডিয়া ও অক্ষর ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি।
তবে শেষদিকে চাপ সামলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান লোকেশ রাহুল। তার হিসেব করে খেলা ৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভারত ৪৯তম ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার রাচিন রবীন্দ্র ও উইল ইয়াং ভালো সূচনা করেন। বিশেষ করে রাচিন বেশ আগ্রাসী ব্যাটিং করছিলেন। তবে ভাগ্যের সহায়তা পেলেও সেটিকে কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। সপ্তম ওভারে মোহাম্মদ শামির বলে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান।
ভারত স্পিন আক্রমণে গেলে কিছুটা সমস্যায় পড়েন কিউই ব্যাটাররা। বরুণ চক্রবর্তীর বলে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেলেও শেষ পর্যন্ত কুলদীপ যাদবের গুগলিতে বোল্ড হয়ে ২৯ বলে ৩৭ রান করে ফেরেন রাচিন।
আরও পড়ুনঃ- একই ভেন্যুতে খেলেই সুবিধা পাচ্ছে ভারত, স্বীকার করলেন শামি!
অপর প্রান্তে থাকা অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও ব্যর্থ হন। তিনি মাত্র ১৪ বলে ১১ রান করে কুলদীপের বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। এরপর টম ল্যাথামও ৩০ বলে ১৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
১০৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। ফিলিপস ৫২ বলে ৩৪ রান করে বিদায় নেন।
মিচেল ফিফটি পূর্ণ করার পর দ্রুত রান তুলতে গিয়ে আউট হয়ে যান, ৬৩ রান করে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দেন। শেষদিকে মাইকেল ব্রেসওয়েল ৪০ বলে অপরাজিত ৫৩ রানের ইনিংস খেলে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন।
তবে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ এই লক্ষ্য সহজেই তাড়া করে শিরোপা ঘরে তোলে। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ভারত অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফি জয়ের স্বাদ নেয়।
ডেস্ক রিপোর্টার
সর্বাধিক পঠিত
Loading...