
টিকটক-ইন্সটাগ্রাম রিলস কি ধ্বংস করছে মস্তিষ্কের সৃজনশীলতা?
অনেকেই এখন দিনের বেশিরভাগ সময় ইন্সটাগ্রামের রিলস কিংবা টিকটকের সংক্ষিপ্ত ভিডিও দেখেই কাটিয়ে দিচ্ছেন। বিনোদনের নামে এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিম্নমানের কন্টেন্ট দেখার অভ্যাস গড়ে উঠছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কোনো উপকার বয়ে আনে না।
কিন্তু আপনি কি জানেন, এ অভ্যাস মাঝে মাঝে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে? এমন ভিডিও দেখার প্রবণতা আমাদের মস্তিষ্কের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে, যা বিশেষজ্ঞরা ‘ব্রেইন রট’ নামে চিহ্নিত করেছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক-
‘ব্রেইন রট’ বলতে বোঝায় নিম্নমানের অনলাইন কন্টেন্ট বারবার দেখার কারণে মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়া। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার মাধ্যমে এটি আমাদের জীবনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। শুরুতে একঘেয়েমি কাটাতে রিলস বা টিকটক ভিডিও দেখার অভ্যাস শুরু হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি আসক্তিতে পরিণত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘসময় ধরে এ ধরনের কন্টেন্ট দেখার ফলে মস্তিষ্কের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা কমে যায়। একইসঙ্গে মানসিক চাপ বাড়ে এবং ধীরে ধীরে আমাদের আচরণেও পরিবর্তন আসতে শুরু করে। বিশেষ করে জেনারেশন জেড এবং জেনারেশন আলফার মধ্যে এই প্রভাব আরও বেশি লক্ষ করা যায়।
সম্প্রতি ‘ব্রেইন রট’ শব্দটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা বেড়েছে। অক্সফোর্ড ডিকশনারি এটি তাদের ওয়ার্ড অব দ্য ইয়ার হিসেবে ঘোষণা করেছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, আগের বছরের তুলনায় শব্দটির ব্যবহার ২৩০ শতাংশ বেড়েছে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি বর্তমান সমাজে মানুষের ভার্চুয়াল জীবনের বাস্তবতা ও সময় ব্যবস্থাপনার সংকট তুলে ধরে।
আরও পড়ুনঃ- স্ক্যামারদের হাত থেকে কিভাবে সুরক্ষিত রাখবেন ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট?
‘ব্রেইন রট’ শব্দটি কিন্তু একেবারে নতুন নয়। ১৮৫৪ সালে হেনরি ডেভিড থোরো তার বই ওয়ালডেন-এ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। তখন এটি মানুষের মানসিক দক্ষতার অবনতিকে বোঝাত। তবে বর্তমানে শব্দটির ব্যবহারে একটি ভিন্ন অর্থ যোগ হয়েছে—সোশ্যাল মিডিয়ার নিম্নমানের কন্টেন্টের নেতিবাচক প্রভাব।
সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার কেবল সময় নষ্টই করে না, বরং আমাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারসাম্য বজায় রেখে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করাই হবে সঠিক পথ।
আজকের ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এটি যেন আমাদের মস্তিষ্কের সৃজনশীলতা নষ্ট না করে, সেদিকে সচেতন দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
ডেস্ক রিপোর্টার
সর্বাধিক পঠিত
Loading...