
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমেরিকায় টিকটক নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত
আমেরিকায় আগামী রোববার থেকে চীনের তৈরি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক বন্ধ হতে চলেছে । যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট টিকটকের করা একটি আপিল খারিজ করে দেওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশি শত্রুদের হাতে চলে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই এই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় অর্ধেক মানুষই টিকটক ব্যবহার করছেন, যা এ সিদ্ধান্তকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। তবে টিকটক নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকটক নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর প্রতিযোগিতায় নতুন মোড় আসতে পারে। অনেকেই ধারণা করছেন, স্থানীয় অ্যাপগুলো এই সুযোগে জনপ্রিয়তা বাড়াতে চেষ্টা করবে। তবে এই সিদ্ধান্তের কারণে টিকটক ব্যবহারকারীরা বিকল্প মাধ্যম খোঁজার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হবেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। ট্রাম্প নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সকলকে আদালতের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কি?
এদিকে, বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো টিকটকের নিষেধাজ্ঞার ওপর ৬০ থেকে ৯০ দিনের জন্য স্থগিতাদেশ দিতে পারেন। তবে এটি পুরোপুরি নিশ্চিত নয় এবং অনেকটাই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
অনেকে মনে করছেন, টিকটকের এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্বেরই একটি অংশ। টিকটককে ঘিরে এই উত্তেজনা দেখিয়ে দেয় যে, দুই দেশের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই আরও গভীর হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্টার
সর্বাধিক পঠিত
Loading...